মঙ্গলবার | ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শ্রীমঙ্গলের সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরনী ফুলতলা ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে একতা যুব সংস্থার তাফসিরুল কোরআন মাহফিল ৩০ জানুয়ারি শীতার্ত মানুষের কল্যাণে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির শীতবস্ত্র বিতরণ ‘বলাই-সজীব ভাই-ভাই, এক দড়িতে ফাঁসি চাই’ কুশিয়ারা পাড়ের ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তির মাছের মেলা অদক্ষ চালক কেড়ে নিল প্রাণ; নতুন বই নিয়ে বাড়ি ফিরা হল না খাদিজার কুলাউড়ায় ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’ নবনির্বাচিত কৃষিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়েছে জেলা আওয়ামিলীগ শ্রীমঙ্গলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ত্রিপুরা পল্লীতে শীতবস্ত্র বিতরন

মৌলভীবাজারে শিক্ষক বদলীতে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা বেবী করের বদলী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বেবী কর মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে অনিয়ম করে আবারও মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন। যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালার গুরুত্বর লঙ্গন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বেবী কর মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অনলাইনে শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ৪ জানুয়ারি ২০২৩ ইং তারিখে মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বদলী হন। বদলী হবার পর একই মাসের ২২ জানুয়ারি তিনি আবার মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হন। ৪ জানুয়ারি বেবী কর বিদ্যালয় থেকে বদলী হলেও শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না গিয়ে মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদান অব্যাহত রাখেন এবং সেখানে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের দৈনিক শিক্ষক হাজিরা খাতায় নিজের স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার পদটি শূন্য হলে মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে অনেকেই আবেদন করেন। তার মধ্যে মৌলভীবাজার জজ কোর্টের আইনজীবি সাকির আহমদের স্ত্রী ঐ বিদ্যালয়ে আবেদন করেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ দাসকে অবহিত করা হয়।

প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষক বেবী কর জানান, বিদ্যালয়ে কোন খালি পদ নেই।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, বেবী কর বদলীর আদেশ পাওয়ার পরও শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না গিয়ে তিনি মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান অব্যাহত রাখেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ওচঊগওঝ থেকে জানা যায়, বেবী কর ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ইং তারিখে শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে সেখান থেকে আবার তিনি ২২ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। কিন্তু ওচঊগওঝ তথ্যে দেখা যায়, বেবী কর শ্রীনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিলেন ২৮ মে ২০২৩ইং পর্যন্ত।

০৪ জানুয়ারি তারিখের পর থেকে আইপিইএমআইএস মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার নাম না থাকলেও বেবী কর মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন এবং তিনি ঐ বিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারত গমন করেন। বেবী করের এই অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বেবী কর বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এই অনিয়ম করেন।

সূত্র জানায়, অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন সদর উপজেলা থেকে দুর্নীতির দায়ে বদলীকৃত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা মোতাহার বিল্লাহ, সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরতি ব্যানার্জি, অফিসের বর্তমান উচ্চমান সহকারি মোহাম্মদ আলী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বদলীকৃত উচ্চমান সহকারি জাকির হোসেন ও মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ রঞ্জন দাস চৌধুরী। বেবী করের অনলাইনে বদলীর আদেশ থাকা সত্বেও নিজেদের ইচ্ছা মাফিক চালিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি শিক্ষক বেবী কর বলেন, এই আদেশটি ভুল:বশত হয়েছে। কিভাবে তিনি এক বিদ্যালয় থেকে বদলী হয়ে আবার সেই বিদ্যালয়ে বদলী হলেন তার কোন কাগজপত্র আছে কি-না? বেবী কর জানান তার কাছে লিখিত কোন কাগজপত্র নেই। মৌখিক আদেশে তিনি মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আর্থিক কোন লেনদেন করিনি।

মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ রঞ্জন দাস চৌধুরী বলেন, আমি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি বলেছি। তিনি বলেছেন, অফিস এটা দেখবে। বিল্লাহ স্যার এটা বলার পর আমি আর কিছু বলিনি। তৎকালীন সময়ে দায়িত্বরত সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরতি ব্যানার্জি বলেন, ওনার বদলীর আদেশ হয়েছিল। কিন্তু কাগজে সমস্যা থাকায় উনাকে বদলীর আদেশ দেওয়া হয়নি। কোন ধরণের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি যারাই বলেছে তারা মিথ্যা বলছে। মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। শিক্ষকরা কেউ আমাকে অবগত করেননি। মৌলভীবাজার জজ কোর্টের আইনজীবি সাকির আহমদ বলেন, প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে আমার স্ত্রীকে মাতারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলী আদেশ করা হয়েছে। ওই বদলী করাতে না পারলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

বেবী করের বদলীর বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আহমদ আলী বলেন, আমি বিষয়টি জানিনা। তখন আমি এই স্কুলের দায়িত্বে ছিলাম না। সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অরবিন্দু কর্মকার বলেন, বেবী করকে বদলি করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু উনার কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকায় পরবর্তীতে উনার বদলি বাতিল করা হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, অধিদপ্তর বদলি বাতিল করলে উনি পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেন। তারপরও আমি ওই শিক্ষক সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেব।


আরও পড়ুন
Hexus IELTS